৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি



হলুদ সাংবাদিকতার দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক

ইসরাত জাহান 
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১
ছবি সংগৃহীত

সারাবিশ্বের আনাচে কানাচের খবরাখবর নিমিষেই পেয়ে থাকি গণমাধ্যমের কল্যাণে। অল্প সময়ের মধ্যে কোথায় কি ঘটছে তা পৃথিবীবাসীর কাছে তুলে ধরে গণমাধ্যম। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র ইত্যাদি যে কোন দেশের  রাষ্ট্রব্যবস্থা যেমন হোক না কেন তার সাথে গণমাধ্যম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কোন দেশের কল্যাণ – অকল্যাণ দুটো দিকই গণমাধ্যমে উঠে আসে। গণমাধ্যম এমন একটি মাধ্যম যেখানে কর্মরত ব্যক্তিগণ চাইলে নিমিষেই একটি দেশের উন্নয়নের চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে আবার চাইলেই  দেশকে উন্নয়নের দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিতে পারে। প্রত্যেকটি মানুষ দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সারাবিশ্বে কি কি ঘটছে তা দেখার জন্য গণমাধ্যমে চোখ ভুলিয়ে নেয়। সেই চোখ ভুলিয়ে নেওয়ার মধ্যে কেউ বা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আবার কেউ বা ডুব দেয় অস্বস্তির রাজ্যে। এই গণমাধ্যম হয়ে উঠে কারো জন্য কল্যাণকর আবার কারো জন্য বয়ে নিয়ে আসে অকল্যাণের সুর। রোজ গণমাধ্যমে উঠে আসে নানা ধরনের ঘটনা। হত্যা, ধর্ষণ,  চুরি, ডাকাতি, দুর্ঘটনা এরকম বিভিন্ন ঘটনার ছড়াছড়ি গণমাধ্যমে। আবার রয়েছে বিনোদন, খেলাধুলা সংশ্লিষ্ট খবর ও। কিন্তু বর্তমানে গণমাধ্যম গুলোতে হলুদ সাংবাদিকতার দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। যেই গণমাধ্যমকে মানুষ সত্যের অনুসারী হিসেবে জেনে আসছে তাতে আজকে হলুদ সাংবাদিকতার ছড়াছড়ি। হলুদ সাংবাদিকতার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে  কীভাবে তারা তাদের TRP বাড়িয়ে অন্য গণমাধ্যম থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকবে। ফলে তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন, দৃষ্টি আকর্ষণকারী,, রোমাঞ্চকর শিরোনাম ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশ করে। যা পড়ে কোন পাঠক উপকৃত না হয়ে বরং হতাশ হয়। এসব সাংবাদিকতার নীতি বিবর্জিত কর্মকাণ্ড।  জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী রঙচঙ করে সংবাদ উপস্থাপন কখনো কাম্য নয়। শুধুমাত্র পাঠক বাড়ানোর উদ্দেশ্য নিয়ে সংবাদ প্রচার করা কখনো মঙ্গলজনক নয়। বর্তমানে এমন কিছু গণমাধ্যম রয়েছে যেগুলোতে শিরোনামগুলো এতটাই চমকপ্রদ হয় যে পাঠক সেই সংবাদ পাঠ করে অধীর আগ্রহে কিন্তু শেষে দেখা যায় শিরোনমের সাথে মূল সংবাদের কোন মিল নেই। ফলে পাঠক সেই গণমাধ্যম বয়কট করতে বাধ্য হয়। এমন অনেক শিরোনাম ব্যবহৃত হয় যা থেকে কোন না কোন গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং সমাজে অস্থিরতা দেখা দেয়।

সাংবাদিকতা কোন সাধারণ পেশা নয়। এটি এমন একটি পেশা যা প্রশংসার দাবিদার। যেটিকে মহান পেশা হিসেবে ধরা হয়। একজন সাংবাদিক দেখা যায় যে কোন সময় যে কোন পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ এবং তা অনেক সুন্দর ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু এমন কিছু সাংবাদিক রয়েছে যারা কোন একটি সংবাদকে এমন ভাবে উপস্থাপন করেন যা অতিরঞ্জিত করার কারণে কেলেঙ্কারির সৃষ্টি হয়। এর ফলে এই মহান পেশাকেই অবমাননা করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কিছু মানুষ অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এক মিথ্যা খেলায় মেতে উঠে। ভুয়া তথ্য জনসম্মুখে উপস্থাপন করে নিজেদের সাংবাদিক দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে তারা ভুয়া সাংবাদিক। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নিয়ে তারা এরকম অরাজকতার আশ্রয় নেয়। ফলে সংবাদ মাধ্যমের উপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলছে জনগণ। সত্য ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করাই হল প্রত্যেকটা সাংবাদিকের কাজ। কিন্তু বর্তমানে হলুদ সাংবাদিকের দৌরাত্মের কারণে তাদের কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজের জন্য মানুষ গণমাধ্যমের উপর থেকে বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়ে ফেলছে। দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য এই হলুদ সাংবাদিকতাকে রুখে দিতে হবে৷ তার পাশাপাশি প্রত্যেকটা সাংবাদিককে তাদের দায়িত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কোন ধরনের ভিত্তিহীন, অরাজকতা সৃষ্টিকারী সংবাদ প্রকাশ না করে বরং সমাজে গঠিত সত্য ঘটনা প্রচার করতে হবে।

লেখক: ইসরাত জাহান
শিক্ষার্থী,ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম।






এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ





















© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD
themesbazar_brekingnews1*5k